ব্রতচারী নৃত্য হলো বাংলার এক ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য ও আত্মউন্নয়নমূলক অনুশীলন, যা ১৯৩২ সালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক গুরুসদয় দত্ত প্রবর্তন করেন। এটি কেবল কোনো সাধারণ নাচ নয়, বরং শারীরিক ব্যায়াম, মানসিক শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং জাতীয় চরিত্র গঠনের এক অনন্য মাধ্যম।
নিচে চিত্রসহ ব্রতচারী নৃত্যের বিবরণ তুলে ধরা হলো:
ব্রতচারী নৃত্যের মূল বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি
ক. সূচনা ও উদ্দেশ্য
- প্রতিষ্ঠাতা: গুরুসদয় দত্ত (Gurusaday Dutt)।
- মূল ভাবধারা: ব্রতচারী আন্দোলন বা নাচের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে সুস্বাস্থ্য, চরিত্রগঠন, সেবাভাব এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। "ব্রত" (সংকল্প) এবং "চারী" (যে অনুসরণ করে) মিলে তৈরি হয়েছে ব্রতচারী।
খ. নৃত্যের ধরন ও পোশাক
- পোশাক: সাধারণত পুরুষেরা সাদা ধুতি বা পাজামা ও কুর্তা পরেন এবং মহিলারা লাল-সাদা পাড়ের শাড়ি বা নির্দিষ্ট ব্রতচারী পোশাক পরিধান করেন।
- ভঙ্গি ও ছন্দ: ব্রতচারী নৃত্যে তালে তালে হাঁটা, হাত ও পায়ের সুনির্দিষ্ট সঞ্চালন এবং লাঠি বা কাঠি ব্যবহার করা হয়। এটি বেশ ছন্দময় ও উদ্দীপনামূলক।
গ. সংগীত ও ছন্দ
- ব্রতচারী নৃত্যের সাথে পরিবেশিত গানগুলো অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক হয়।
- এগুলো সাধারণত ছড়া ও সুরের মাধ্যমে গাওয়া হয়, যাতে দেশপ্রেম, সত্যবাদিতা, একতা ও জাতীয় চেতনার বাণী ফুটে ওঠে। ঢোল, কাঁসর বা করতাল দিয়ে এই নাচে তাল রক্ষা করা হয়।
ঘ. প্রধান ব্রত বা সংকল্পসমূহ
ব্রতচারী নৃত্যের সাথে যুক্ত কিছু মূল নীতি বা প্রণালী রয়েছে, যেমন:
- পাঁচটি ব্রত: জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দ।
- ষোলটি পন: স্বাস্থ্য রক্ষা, সত্য কথা বলা, পরোপকার করা ইত্যাদি সুঅভ্যাস চর্চার অঙ্গীকার।
ঙ. সামাজিক ও শারীরিক মূল্য
- শারীরিক কসরত: এটি শারীরিক সহনশীলতা ও ফিটনেস বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী।
- সামাজিক ঐক্য: দলীয়ভাবে বা গুচ্ছাকারে পরিবেশন করা হয় বলে এটি তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও শৃঙ্খলার বিকাশ ঘটায়।