Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৭ পূর্বাহ্ণ

জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট (Geostationary Satellite)

জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট (Geostationary Satellite বা ভূ-স্থির উপग्रह) হলো এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যা বিষুবরেখার (Equator) ঠিক ওপরে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উঁচুতে এমন একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়, যাতে এটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সমান গতিতে (২৪ ঘণ্টায় একবার) পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

এর ফলে পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় স্যাটেলাইটটি আকাশে এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে। এই ধরনের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে পৃথিবীর এক প্রান্তের দেশ থেকে অন্য দেশের সাথে কীভাবে যোগাযোগ বা সিগন্যাল আদান-প্রদান করা হয়, তা নিচে চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো:

১. জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট ও গ্লোবাল কভারেজের চিত্র

২. এক দেশ থেকে অন্য দেশের সাথে জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ প্রক্রিয়া

দুটি ভিন্ন দেশের (যেমন: দেশ 'ক' এবং দেশ 'খ') মধ্যে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সিগন্যাল বা ডেটা আদান-প্রদান যেভাবে হয়:

 [ দেশ 'ক' - আর্থ স্টেশন / ট্রান্সমিটার ]
                 │
                 ▼ (আপলিংক সিগন্যাল - Uplink)
       [ জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট ]
       (মহাকাশে ৩৫,৭৮৬ কিমি উঁচুতে স্থির)
       • ট্রান্সপন্ডার দ্বারা সিগন্যাল বিবর্ধন
                 │
                 ▼ (ডাউনলিংক সিগন্যাল - Downlink)
 [ দেশ 'খ' - রিসিভার স্টেশন / ব্যবহারকারী ]

ধাপসমূহ:

  1. আপলিংক (Uplink from Country A): প্রথম দেশের (দেশ 'ক') কোনো প্রধান টেলিকমিউনিকেশন বা আর্থ স্টেশন (Earth Station) থেকে বিশাল ডিশ অ্যান্টেনার মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গে ডেটা, কল বা ইন্টারনেট সিগন্যাল মহাকাশে থাকা জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের দিকে পাঠানো হয়।
  2. সিগন্যাল প্রসেসিং ও রিলে (Satellite Processing): মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটের ভেতরে থাকা ট্রান্সপন্ডার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সেই দুর্বল সিগন্যাল রিসিভ করে, সেটির ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করে এবং সেটিকে শক্তিশালী (Amplify) করে।
  3. ডাউনলিংক (Downlink to Country B): শক্তিশালী করা সিগন্যালটি স্যাটেলাইটটি পৃথিবীর যে বিশাল অংশজুড়ে কভার করে (Footprint), তার মধ্যে অবস্থিত দ্বিতীয় দেশের (দেশ 'খ') রিসিভার স্টেশন বা গ্রাউন্ড ডিশ অ্যান্টেনার দিকে নিচের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এভাবে এক দেশের ডেটা মুহূর্তের মধ্যে অন্য দেশে পৌঁছে যায়।

৩. সারা পৃথিবীকে যুক্ত করার কৌশল (The 3-Satellite Rule)

একটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৪০% এর মতো) এলাকা কভার করতে পারে। তাই সারা পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে বিষুবরেখার ওপরে সমান দূরত্বে মাত্র ৩টি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট যথেষ্ট হয়।

৪. প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা

  • স্থির অবস্থান: পৃথিবী থেকে সবসময় একই জায়গায় দেখা যাওয়ায় এন্টেনার দিক পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় না।
  • বিশাল কভারেজ: একটিমাত্র স্যাটেলাইট দিয়ে বিশাল অঞ্চল বা একাধিক দেশের মধ্যে একসঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।
  • সম্প্রচার: আন্তর্জাতিক টেলিভিশন ব্রডকাস্ট, গ্লোবাল ওয়েদার আপডেট এবং দীর্ঘ দূরত্বের টেলিযোগাযোগে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট