সহকারী শিক্ষক
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:২৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১০
স্থিতি (Rest): পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, সময়ের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর পারিপার্শ্বিকের তুলনায় অবস্থান পরিবর্তন না করার যে অবস্থা, তাকে স্থিতি (Rest) বলে. যদি কোনো বস্তু তার চারপাশের সাপেক্ষে স্থির থাকে, তবে বস্তুটিকে স্থির বস্তু এবং তার এই অবস্থাকে স্থিতি বলা হয়.
স্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
আপেক্ষিক স্থিতি: মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ স্থির বা পরম স্থিতিতে নেই. উদাহরণস্বরূপ, একটি ঘর পৃথিবীর সাপেক্ষে স্থির হলেও পৃথিবী নিজেই সূর্যের চারদিকে ঘুরছে. তাই সব স্থিতিই মূলত আপেক্ষিক.
বাস্তব উদাহরণ: টেবিলের উপর রাখা একটি বই, ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা আলমারি বা রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছ হলো স্থিতির সাধারণ উদাহরণ.
স্থিতি জডতা (Inertia of Rest): স্থির বস্তুর চিরকাল স্থির থাকার যে প্রবণতা বা ধর্ম, তাকে স্থিতি জডতা বলে. যেমন— হুট করে বাস চলতে শুরু করলে যাত্রীদের পিছনের দিকে হেলে পড়া.
পদার্থবিজ্ঞানে গতি (Motion) হলো এমন একটি ঘটনা যেখানে সময়ের সাথে সাথে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে। সহজ কথায়, যদি কোনো বস্তু কোনো নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ কাঠামোর (পারিপার্শ্বিকের) সাপেক্ষে স্থান পরিবর্তন করে, তবে তাকে গতিশীল বস্তু এবং তার ওই অবস্থাকে গতি বলা হয়।
গতির প্রধান প্রকারভেদ
পদার্থবিজ্ঞান অনুসারে গতি মূলত ৫ ধরনের হয়:
রৈখিক গতি: কোনো বস্তু যখন সরলরেখায় চলে তখন তার গতিকে রৈখিক গতি বলে (যেমন: সোজা রাস্তায় চলা গাড়ি)।
ঘূর্ণন গতি: কোনো বস্তু যখন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু বা অক্ষের চারদিকে ঘোরে (যেমন: ফ্যানের পাখা বা লাটিমের ঘোর)।
চলন গতি: কোনো বস্তু এমনভাবে চলতে থাকে যাতে বস্তুর সকল কণা একই সময়ে একই দিকে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে।
পর্যাবৃত্ত গতি: কোনো গতিশীল বস্তুর গতি যদি এমন হয় যে এটি তার চলার পথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে বারবার অতিক্রম করে (যেমন: ঘড়ির কাঁটার গতি)।
স্পন্দন গতি: এটি পর্যাবৃত্ত গতিরই একটি বিশেষ রূপ, যেখানে কোনো বস্তুটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে তার গতির অর্ধেক সময় একদিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে যাতায়াত করে (যেমন: দোলনার গতি বা ঝুলন্ত সুতোর গতির দোলন)।