সহকারী শিক্ষক
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
ইউনিটঃ অধ্যায়-২
মাদার বোর্ড ও তার বিভিন্ন অংশের পরিচিতি
মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের মূল সার্কিট বোর্ড বা মেরুদণ্ড, যা একটি একক প্ল্যাটফর্মে কম্পিউটারের সকল যন্ত্রাংশকে যুক্ত করে এবং তাদের মধ্যে তথ্য ও বিদ্যুৎ আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে।
মাদারবোর্ডের গঠন (Structure & Main Parts)
মাদারবোর্ডে মূলত বিভিন্ন ধরনের স্লট, চিপ ও কানেক্টর থাকে:
১. সিপিইউ সকেট (CPU Socket): যেখানে কম্পিউটারের প্রধান প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বা
প্রসেসর বসানো হয়।
২. র্যাম স্লট (RAM Slots): মেইন মেমোরি বা র্যাম লাগানোর জন্য নির্ধারিত স্লট।
৩. চিপসেট (Chipset): নর্থব্রিজ ও সাউথ ব্রিজ চিপ—যা সিপিইউ, মেমোরি এবং অন্যান্য
ডিভাইসের মধ্যকার ডেটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. বায়োস (BIOS / ROM): স্থায়ী মেমোরি যেখানে কম্পিউটার চালুর প্রয়োজনীয়
নির্দেশাবলি (POST check) সংরক্ষিত থাকে।
৫. সিএমওএস ব্যাটারি (CMOS Battery): মাদারবোর্ডের ঘড়ি এবং বায়োসের সেটিংস
ধরে রাখতে ছোট গোল ব্যাটারি।
৬. এক্সপ্যানশন স্লট (Expansion Slots): গ্রাফিক্স কার্ড, সাউন্ড কার্ড বা নেটওয়ার্ক কার্ড
লাগানোর জন্য (যেমন- PCIe স্লট)।
৭. পাওয়ার কানেক্টর (Power Connector): পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU) থেকে
মাদারবোর্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কানেক্টর।
৮. ইনপুট/আউটপুট পোর্ট (I/O Ports): পেছনের দিকে থাকা ইউএসবি (USB), ল্যান
(LAN), অডিও এবং ডিসপ্লে পোর্ট
মাদারবোর্ডের কাজ (Functions)
১. যন্ত্রাংশের সংযোগ রক্ষা: সিপিইউ, র্যাম, হার্ডডিস্ক/এসএসডি এবং গ্রাফিক্স কার্ডসহ সকল
হার্ডওয়্যারকে একে অপরের সাথে যুক্ত রাখে।
২. পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন: পাওয়ার সাপ্লাই থেকে আসা বিদ্যুৎ বিভিন্ন ভোল্টেজে রূপান্তর করে
প্রতিটি কম্পোনেন্টে সঠিকভাবে সরবরাহ করে।
৩. ডেটা কমিউনিকেশন: ডেটা বাস বা সার্কিট ট্রেসের মাধ্যমে প্রসেসর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের মাঝে
তথ্য আদান-প্রদান করায়।
৪. বাইওস ও বুস্টিং: কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় প্রাথমিক পরীক্ষা (POST) সম্পন্ন করে
এবং অপারেটিং সিস্টেম লোড করতে সাহায্য করে।
৫. সম্প্রসারণের সুযোগ প্রদান: অতিরিক্ত কার্ড বা ডিভাইস যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন স্লট ও পোর্ট সরবরাহ করে।