Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

ই-টেন্ডারিং (E-Tendering)

ই-টেন্ডারিং (E-Tendering) 

১. ই-টেন্ডারিং কী?

ই-টেন্ডারিং (E-Tendering) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে দরপত্র আহ্বান, দরপত্র জমা, দরপত্র খোলা, মূল্যায়ন এবং ঠিকাদার নির্বাচন করার একটি আধুনিক পদ্ধতি।

আগে দরপত্রের কাগজপত্র সরাসরি অফিসে জমা দিতে হতো। বর্তমানে ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থায় কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে এসব কাজ করা যায়।

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়কাজের জন্য e-GP System ব্যবহার করা হয়।

সরকারি ই-জিপি পোর্টাল:

২. ই-টেন্ডারিংয়ের চিত্র

নিচের চিত্রে ই-টেন্ডারিংয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেখানো হলো।

ই-টেন্ডারিংয়ের প্রক্রিয়ার ফ্লোচার্ট

       ┌─────────────────────┐
       │ সরকারি দপ্তর/সংস্থা │
       └──────────┬──────────┘
                  │
                  ▼
       ┌─────────────────────┐
       │ অনলাইনে টেন্ডার     │
       │ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ     │
       └──────────┬──────────┘
                  │
                  ▼
       ┌─────────────────────┐
       │ ঠিকাদারের দরপত্র    │
       │ প্রস্তুত ও জমা       │
       └──────────┬──────────┘
                  │
                  ▼
       ┌─────────────────────┐
       │ অনলাইনে দরপত্র      │
       │ খোলা                │
       └──────────┬──────────┘
                  │
                  ▼
       ┌─────────────────────┐
       │ দরপত্র যাচাই ও      │
       │ মূল্যায়ন            │
       └──────────┬──────────┘
                  │
                  ▼
       ┌─────────────────────┐
       │ যোগ্য ঠিকাদার       │
       │ নির্বাচন            │
       └──────────┬──────────┘
                  │
                  ▼
       ┌─────────────────────┐
       │ কার্যাদেশ প্রদান    │
       └─────────────────────┘

৩. ই-টেন্ডারিংয়ের কার্যপ্রণালি

প্রথম ধাপ: টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

  • সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করে।
  • অনলাইন পোর্টালে টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
  • বিজ্ঞপ্তিতে কাজের বিবরণ, যোগ্যতা, সময়সীমা ও অন্যান্য শর্ত উল্লেখ থাকে।

দ্বিতীয় ধাপ: দরপত্র প্রস্তুত ও জমা

  • ঠিকাদার টেন্ডারের শর্তাবলি পড়েন।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দরপত্র প্রস্তুত করেন।
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরপত্র জমা দেন।

তৃতীয় ধাপ: দরপত্র খোলা

  • নির্ধারিত সময়ে নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে দরপত্র খোলা হয়।
  • জমা দেওয়া দরপত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

চতুর্থ ধাপ: দরপত্র মূল্যায়ন

  • সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র পরীক্ষা করে।
  • ঠিকাদারের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কারিগরি শর্ত এবং আর্থিক প্রস্তাব যাচাই করা হয়।

পঞ্চম ধাপ: ঠিকাদার নির্বাচন

  • দরপত্রের শর্ত ও প্রযোজ্য সরকারি বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত দরদাতা নির্বাচন করা হয়।
  • প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর নির্বাচিত দরদাতাকে জানানো হয়।

ষষ্ঠ ধাপ: কার্যাদেশ প্রদান

  • নির্বাচিত ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
  • চুক্তি সম্পাদনের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরু হয়।

৪. ই-টেন্ডারিংয়ের সুবিধা

১. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: দরপত্রের প্রক্রিয়া অনলাইনে পরিচালিত হয়।

২. সময় সাশ্রয়: অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমে।

৩. খরচ কমানো: কাগজপত্র ও যাতায়াতের খরচ কমতে পারে।

৪. দুর্নীতির ঝুঁকি হ্রাস: সরাসরি যোগাযোগ ও অনিয়মের কিছু সুযোগ কমে।

৫. সহজ তথ্যপ্রাপ্তি: অনলাইনে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখা যায়।

৬. প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি: যোগ্য দরদাতারা দূরবর্তী স্থান থেকেও অংশ নিতে পারেন।

৫. ই-টেন্ডারিংয়ের অসুবিধা

  • ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভরশীল।
  • কম্পিউটার ও অনলাইন ব্যবহারের দক্ষতা প্রয়োজন।
  • সার্ভারের সমস্যায় কাজ ব্যাহত হতে পারে।
  • সঠিকভাবে নথি প্রস্তুত না করলে দরপত্র বাতিল হতে পারে।
  • সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি।

৬. ই-টেন্ডারিং ও প্রচলিত টেন্ডারের পার্থক্য

বিষয় প্রচলিত টেন্ডার ই-টেন্ডারিং
দরপত্র জমা সরাসরি কাগজে অনলাইনে
বিজ্ঞপ্তি কাগজ বা অন্যান্য মাধ্যমে অনলাইন পোর্টালে
সময় তুলনামূলক বেশি লাগতে পারে সময় সাশ্রয় হতে পারে
কাগজপত্র বেশি ব্যবহার হয় তুলনামূলক কম ব্যবহার হয়
তথ্য সংরক্ষণ কাগজের নথি ইলেকট্রনিক নথি
স্বচ্ছতা ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল ডিজিটাল রেকর্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়তে পারে

৭. বাংলাদেশের ই-টেন্ডারিংয়ের উদাহরণ

ধরা যাক, একটি সরকারি দপ্তর একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করল।

১. দপ্তরটি ই-জিপি পোর্টালে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল। ২. যোগ্য ঠিকাদাররা বিজ্ঞপ্তি দেখে দরপত্র প্রস্তুত করলেন। ৩. তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরপত্র জমা দিলেন। ৪. নির্ধারিত নিয়মে দরপত্র খোলা ও মূল্যায়ন করা হলো। ৫. যোগ্য দরদাতা নির্বাচিত হলেন। ৬. অনুমোদন ও চুক্তির প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হলো।

এভাবেই ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সরকারি রাস্তা, সেতু, ভবন এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে।


ই-টেন্ডারিং হলো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি আধুনিক দরপত্র ব্যবস্থা। এটি দরপত্র প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সাহায্য করে। সঠিক নিয়ম অনুসরণ এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট