সহকারী শিক্ষক
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৩
ই-টেন্ডারিং (E-Tendering) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে দরপত্র আহ্বান, দরপত্র জমা, দরপত্র খোলা, মূল্যায়ন এবং ঠিকাদার নির্বাচন করার একটি আধুনিক পদ্ধতি।
আগে দরপত্রের কাগজপত্র সরাসরি অফিসে জমা দিতে হতো। বর্তমানে ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থায় কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে এসব কাজ করা যায়।
বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়কাজের জন্য e-GP System ব্যবহার করা হয়।
সরকারি ই-জিপি পোর্টাল:
নিচের চিত্রে ই-টেন্ডারিংয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেখানো হলো।
┌─────────────────────┐
│ সরকারি দপ্তর/সংস্থা │
└──────────┬──────────┘
│
▼
┌─────────────────────┐
│ অনলাইনে টেন্ডার │
│ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ │
└──────────┬──────────┘
│
▼
┌─────────────────────┐
│ ঠিকাদারের দরপত্র │
│ প্রস্তুত ও জমা │
└──────────┬──────────┘
│
▼
┌─────────────────────┐
│ অনলাইনে দরপত্র │
│ খোলা │
└──────────┬──────────┘
│
▼
┌─────────────────────┐
│ দরপত্র যাচাই ও │
│ মূল্যায়ন │
└──────────┬──────────┘
│
▼
┌─────────────────────┐
│ যোগ্য ঠিকাদার │
│ নির্বাচন │
└──────────┬──────────┘
│
▼
┌─────────────────────┐
│ কার্যাদেশ প্রদান │
└─────────────────────┘
প্রথম ধাপ: টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
দ্বিতীয় ধাপ: দরপত্র প্রস্তুত ও জমা
তৃতীয় ধাপ: দরপত্র খোলা
চতুর্থ ধাপ: দরপত্র মূল্যায়ন
পঞ্চম ধাপ: ঠিকাদার নির্বাচন
ষষ্ঠ ধাপ: কার্যাদেশ প্রদান
১. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: দরপত্রের প্রক্রিয়া অনলাইনে পরিচালিত হয়।
২. সময় সাশ্রয়: অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমে।
৩. খরচ কমানো: কাগজপত্র ও যাতায়াতের খরচ কমতে পারে।
৪. দুর্নীতির ঝুঁকি হ্রাস: সরাসরি যোগাযোগ ও অনিয়মের কিছু সুযোগ কমে।
৫. সহজ তথ্যপ্রাপ্তি: অনলাইনে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখা যায়।
৬. প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি: যোগ্য দরদাতারা দূরবর্তী স্থান থেকেও অংশ নিতে পারেন।
| বিষয় | প্রচলিত টেন্ডার | ই-টেন্ডারিং |
|---|---|---|
| দরপত্র জমা | সরাসরি কাগজে | অনলাইনে |
| বিজ্ঞপ্তি | কাগজ বা অন্যান্য মাধ্যমে | অনলাইন পোর্টালে |
| সময় | তুলনামূলক বেশি লাগতে পারে | সময় সাশ্রয় হতে পারে |
| কাগজপত্র | বেশি ব্যবহার হয় | তুলনামূলক কম ব্যবহার হয় |
| তথ্য সংরক্ষণ | কাগজের নথি | ইলেকট্রনিক নথি |
| স্বচ্ছতা | ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল | ডিজিটাল রেকর্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়তে পারে |
ধরা যাক, একটি সরকারি দপ্তর একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করল।
১. দপ্তরটি ই-জিপি পোর্টালে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল। ২. যোগ্য ঠিকাদাররা বিজ্ঞপ্তি দেখে দরপত্র প্রস্তুত করলেন। ৩. তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরপত্র জমা দিলেন। ৪. নির্ধারিত নিয়মে দরপত্র খোলা ও মূল্যায়ন করা হলো। ৫. যোগ্য দরদাতা নির্বাচিত হলেন। ৬. অনুমোদন ও চুক্তির প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হলো।
এভাবেই ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সরকারি রাস্তা, সেতু, ভবন এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে।
ই-টেন্ডারিং হলো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি আধুনিক দরপত্র ব্যবস্থা। এটি দরপত্র প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সাহায্য করে। সঠিক নিয়ম অনুসরণ এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।