Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০১ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:১৬ অপরাহ্ণ

শ্রেণি: অষ্টম বিষয়: বিজ্ঞান অধ্যায়: সপ্তম ,৬ টপিক: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ও বস্তুর ওজন |

শ্রেণি: অষ্টম
বিষয়: বিজ্ঞান
অধ্যায়: সপ্তম — পৃথিবী ও মহাকর্ষ
পাঠ: ৬
টপিক: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ও বস্তুর ওজন

শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন
পদবি: সহকারী শিক্ষক
বিভাগ: ভৌতবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান: বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়

স্লাইড ১: শিরোনাম

পৃথিবী ও মহাকর্ষ

পাঠ–৬: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ও বস্তুর ওজন

শ্রেণি: অষ্টম
বিষয়: বিজ্ঞান
অধ্যায়: সপ্তম

শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন
সহকারী শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান
বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়।

স্লাইড ২: শিখনফল

আজকের পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা—

১। অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) কী, তা ব্যাখ্যা করতে পারবে।

২। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কেন ভিন্ন হয়, তা বলতে পারবে।

৩। ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবে।

৪। ওজন নির্ণয়ের সূত্র ব্যবহার করে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

স্লাইড ৩: মহাকর্ষ কী?

পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে সকল বস্তুকে আকর্ষণ করে।

মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে। বস্তুর এই পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে।

পৃথিবীর আকর্ষণ বলকে পৃথিবীর অভিকর্ষ বলা হয়।

উদাহরণ:

  • গাছ থেকে ফল মাটিতে পড়ে।

  • উপর থেকে কোনো বস্তু ছেড়ে দিলে নিচে পড়ে।

  • বৃষ্টির পানি মাটির দিকে নেমে আসে।

স্লাইড ৪: অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) কী?

পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর যে ত্বরণ সৃষ্টি হয়, তাকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রতীক হলো g।

পৃথিবীর পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণের গড় মান—

\[ g=9.8\,m/s^2 \]

একক: মিটার/সেকেন্ড² (m/s²)।

এর অর্থ হলো, মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড করে বৃদ্ধি পায়।

স্লাইড ৫: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান

পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়। মেরু অঞ্চলে পৃথিবী কিছুটা চাপা এবং বিষুব অঞ্চলে কিছুটা স্ফীত।

তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভিন্ন হয়।

স্থান

g-এর আনুমানিক মান

মেরু অঞ্চল

৯.৮৩ m/s²

বিষুব অঞ্চল

৯.৭৮ m/s²

সিদ্ধান্ত: মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি এবং বিষুব অঞ্চলে কম।

স্লাইড ৬: g-এর মান পরিবর্তনের কারণ

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলো হলো—

১। পৃথিবীর আকৃতি: পৃথিবী পুরোপুরি গোলাকার নয়। মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ায় সেখানে g বেশি।

২। পৃথিবীর ঘূর্ণন: পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বিষুব অঞ্চলে কেন্দ্রবিমুখ প্রভাব বেশি হয়। ফলে সেখানে কার্যকর অভিকর্ষজ ত্বরণ কম হয়।

৩। উচ্চতা: ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব তত বাড়ে। ফলে g-এর মান কমে।

৪। গভীরতা: ভূপৃষ্ঠের নিচে গভীরে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সাধারণভাবে কমতে থাকে।

স্লাইড ৭: বস্তুর ওজন কী?

পৃথিবী কোনো বস্তুকে যে মহাকর্ষীয় বল দিয়ে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তাকে ওই বস্তুর ওজন বলে।

ওজন একটি বল।

ওজন নির্ণয়ের সূত্র:

\[ W=mg \]

যেখানে,

  • W = বস্তুর ওজন

  • m = বস্তুর ভর

  • g = অভিকর্ষজ ত্বরণ

ওজনের SI একক হলো নিউটন (N)।

স্লাইড ৮: ভর ও ওজনের পার্থক্য

বিষয়

ভর

ওজন

অর্থ

বস্তুর পদার্থের পরিমাণ

অভিকর্ষজনিত আকর্ষণ বল

একক

কিলোগ্রাম (kg)

নিউটন (N)

যন্ত্র

তুলা বা নিক্তি

স্প্রিং তুলা

স্থানভেদে

সাধারণত অপরিবর্তিত

পরিবর্তিত হয়

রাশির ধরন

স্কেলার

ভেক্টর

মনে রাখবে: একই বস্তুর ভর পৃথিবী ও চাঁদে সমান থাকে, কিন্তু ওজন ভিন্ন হয়।

স্লাইড ৯: একই বস্তুর ওজন স্থানভেদে কেন বদলায়?

ধরা যাক, একটি বস্তুর ভর ১০ কিলোগ্রাম।

পৃথিবীতে:

g = ৯.৮ m/s²

\[ W=mg \]
\[ =10\times9.8 \]
\[ =98\,N \]

চাঁদে:

g ≈ ১.৬ m/s²

\[ W=10\times1.6 \]
\[ =16\,N \]

সিদ্ধান্ত: বস্তুর ভর একই থাকলেও অভিকর্ষজ ত্বরণ ভিন্ন হওয়ায় ওজন ভিন্ন হয়।

স্লাইড ১০: গাণিতিক উদাহরণ

প্রশ্ন: ৫ কিলোগ্রাম ভরের একটি বস্তুর ওজন কত? (পৃথিবীতে g = ৯.৮ m/s²)

সমাধান:

দেওয়া আছে,

বস্তুর ভর, m = ৫ kg

অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = ৯.৮ m/s²

আমরা জানি,

\[ W=mg \]

বা,

\[ W=5\times9.8 \]
\[ W=49\,N \]

উত্তর: বস্তুটির ওজন ৪৯ নিউটন।

স্লাইড ১১: শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর খাতায় লেখো।

১। পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে g বিষুব অঞ্চলের তুলনায় বেশি কেন?

২। কোনো বস্তুর ভর ২ কিলোগ্রাম হলে পৃথিবীতে তার ওজন কত? (g = ৯.৮ m/s²)

৩। ভর ও ওজনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

৪। কোনো বস্তুকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গেলে তার ওজন কীভাবে পরিবর্তিত হবে?

স্লাইড ১২: নিজেকে যাচাই করি (MCQ)

১। অভিকর্ষজ ত্বরণের SI একক কোনটি?

ক) kg
খ) N
গ) m/s²
ঘ) m/s

২। পৃথিবীর কোথায় g-এর মান সবচেয়ে বেশি?

ক) বিষুবরেখা
খ) মেরু অঞ্চল
গ) সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে
ঘ) চাঁদে

৩। ওজন নির্ণয়ের সঠিক সূত্র কোনটি?

ক) W = m/g
খ) W = mg
গ) W = g/m
ঘ) W = m + g

৪। ভর কোন ধরনের রাশি?

ক) ভেক্টর
খ) স্কেলার
গ) বল
ঘ) ত্বরণ

স্লাইড ১৩: উত্তর ও সারসংক্ষেপ

MCQ-এর উত্তর:

১। গ) m/s²
২। খ) মেরু অঞ্চল
৩। খ) W = mg
৪। খ) স্কেলার

আজকের পাঠের মূল বিষয়:

১। পৃথিবীর পৃষ্ঠে g-এর গড় মান প্রায় ৯.৮ m/s²।

২। মেরু অঞ্চলে g বেশি এবং বিষুব অঞ্চলে কম।

৩। উচ্চতা বাড়লে g-এর মান কমে।

৪। বস্তুর ওজন নির্ণয়ের সূত্র W = mg।

৫। ভর অপরিবর্তিত থাকলেও ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়।

স্লাইড ১৪: ধন্যবাদ

ধন্যবাদ

কোনো প্রশ্ন আছে?

পৃথিবীর অভিকর্ষ আমাদের চারপাশের প্রতিটি বস্তুর ওজন নির্ধারণ করে।

শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন
সহকারী শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান
বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট