সহকারী শিক্ষক
১২ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৩২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষে গনহারে সম্মানী প্রদানটা বন্ধ হওয়া উচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণটা এখন টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।প্রশিক্ষণের নাম শুনলেই অধিকাংশের মুখের প্রশ্ন কত টাকা পাওয়া যাবে।যদিও ইদানীং প্রশিক্ষন পরবর্তী সম্মানীটা মাত্রারিক্ত হারে হয়েগেছে। অনেক এটাকে টাকার শ্রাদ্ধ বলে থাকেন। আসলে প্রশিক্ষন শেষে শিক্ষকরা কিছু পান এটাতে আমি নিজেই খুশি। এটা কোন কষ্টের কারন নয়।কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। বাংলাদেশের বর্তমানে শিক্ষকদের জন্য যেসকল প্রশিক্ষন চালু আছে শিখন শিক্ষণ কার্যক্রমে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষন মডুয়্যাল সত্যিই আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ। কিন্তু প্রশিক্ষণ গ্রহনের সক্ষমতা ও মানসিক দক্ষতা সব বয়সে থাকে। সকল বিষয়ের প্রশিক্ষন এক সাথে শুরু ও হয় না। কিছু কিছু প্রশিক্ষণের পরবর্তী ব্যপক পরিকল্পনা ও থাকে।সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য থাকে কিছু ইনোভেটিভ ও উদ্যমী শিক্ষকদের প্রশিক্ষনটি দেয়ার।কিন্তু সরকারের সকল পরিকল্পনাই নষ্ট হচ্ছে শুধু প্রশিক্ষণ পরবর্তী অতিরিক্ত সম্মানীর কারনে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব প্রশিক্ষন কেমন হল তা মূল্যায়ন করা। প্রশিক্ষনার্থীর কর্তব্য প্রশিক্ষন লব্ধ জ্ঞান সহকর্মীর মধ্যে বিতরণ করা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা হয়ে উঠে না কারন প্রশিক্ষনার্থী সকলের হিংসা কারন হন তিনি প্রায় বেতনের সমান সম্মানী নিয়ে এসেছেন ট্রেনিং থেকে।শিক্ষা অফিসে সঠিক ডাটাবেস থাকে না বলে একই প্রশিক্ষণে একাধিক বার যাওয়ার সুযোগ ঘটে। প্রশিক্ষণে পাঠানোর জন্য একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের থাকে বলে অনেক যোগ্য শিক্ষক বাদ পরেন। প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েও শুধু প্রতিষ্ঠান প্রধানের বাধার কারনে প্রশিক্ষণের সু্যোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাস আছে।আবার অনেক প্রধান মহোদয় আছেন যারা নিজ সহকর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধি হেতু প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবস্থা করেন। তবে এমন প্রতিষ্ঠান প্রধান সংখ্যায় খুবই কম।প্রশিক্ষনার্থী নির্বাচনের সময় প্রতিষ্ঠান প্রধানের অবশ্যই ভাবা উচিত তার সহকর্মীর মানসিক সক্ষমতা আছে কিনা ঐ প্রশিক্ষণ গ্রহনের, না তিনি শুধু সম্মানীর কথা ভেবে পুরু সেশন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিবেন।আসলে বয়স্কদের প্রশিক্ষণ পেডাগোজি ভিত্তিক করানোর সুযোগ নেই। একজন শিক্ষক যদি ভাবেন শুধু সময় কাটিয়ে সম্মানী নিয়ে বিদায় হব তবে প্রশিক্ষকের কিছুই করার থাকে না।সুতরাং প্রশিক্ষনার্থী নির্বাচনের পূর্বে তা অবশ্যই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন সম্মানিত কর্তৃপক্ষের।বর্তমানে প্রশিক্ষণের অনলাইন প্লাটফরম মুক্তপাঠ (http://muktopaath.gov.bd/) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে আসছে। পূর্বে মুক্তপাঠে প্রশিক্ষণ সিস্টেমে কিছুটা দূর্বলতা থাকলেও বর্তমানে মুক্তপাঠের প্রশিক্ষণ সিস্টেম অত্যন্ত সুন্দর এবং কার্যকরী। তাই আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকটা আকুল আবেদন করব মুক্তপাঠের সার্টিফিকেট গুলি যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য। এবং সকল প্রশিক্ষণ মুক্তপাঠের মাধ্যমে প্রদান করান জন্য। তাতে সরকারের প্রশিক্ষণের ব্যয় অনেক কম হবে। প্রতিষ্ঠানেরও কোন সমস্যা থাকবে না।দক্ষ ও আগ্রহী শিক্ষকরাই অধিকতর লাভবান হবে। আসলে উপরোক্ত কথাগুলি আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা লব্ধ। যদি কারো মনে কোন কষ্ট লেগে থাকে তা আমি পূর্বেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।