Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০১ মে, ২০২০ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

মহামারির সময়ে মে দিবস
<?xml encoding="utf-8" ?>

উনিশ শ উনিশের প্রথম সপ্তাহ। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের জাহাজ কারখানায় শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ। মিলছে কর্মবিরতির আভাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধকল গেলেও চারদিকে তখন স্প্যানিশ ফ্লুর প্রকোপ। এ এক সাংঘাতিক মহামারি। ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯১৯ সালের জুন পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এই মহামারিতে অন্তত ৬ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। এই সময়ে নীরবে-নিভৃতে অতিবাহিত হয়ে গেছে শ্রমিকদের মে দিবস। একদিকে মৃতের ঢল, অন্যদিকে কারখানায় কাজের আদেশ। কিন্তু বেতন বৃদ্ধির কোনো নিশানা নেই। কর্মবিরতি তাই ডাকতেই হলো। আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজশ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল ১৯১৯-এর ২১ জানুয়ারি। আর সিয়াটলে এত দিন কর্মবিরতির আভাস মিললেও এখানে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী ধর্মঘট।

মুহূর্তেই ওই আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে। কর্মবিরতি রূপান্তরিত হলো সর্বসাধারণের অবরোধে। স্থবির হয়ে পড়ল পুরো সিয়াটল। এর কয়েক দিন বাদে কর্মবিরতির ডাক দিলেন বোস্টনের পুলিশ সদস্যরা। এভাবেই তখন শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের অবরোধের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। নিউইয়র্কে ব্রডওয়ে থিয়েটারে অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও নাটক বন্ধ করে দিলেন। প্রায় ৫০ হাজার পোশাকশ্রমিক ১৩ সপ্তাহের জন্য গেলেন কর্মবিরতিতে। প্রায় তিন লাখ শ্রমিক অবরোধ ডেকে বসে জাতীয় ইস্পাত কারখানায়। নভেম্বরে চার লাখ কয়লাশ্রমিক ডাকলেন ‘বন্​ধ্​’। এ সময় কয়লাশ্রমিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের অনুরোধ শুধু নয়, ফেডারেল কোর্টের আদেশও প্রত্যাখ্যান করলেন। ঘটনা এতই প্রভাববিস্তারী ছিল যে দ্য আউটলুক এ ঘটনাপ্রবাহকে ‘বাতাসে অবরোধের জ্বর…’ হিসেবে ছেপেছিল। আর রিডার্স ডাইজেস্ট-এর শিরোনাম ছিল আরও সরাসরি: ‘স্ট্রাইকের প্যানডেমিক’। 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট