সিনিয়র শিক্ষক
২১ জুন, ২০২০ ০৮:০৭ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ সাহিত্য কনিকা
আমাদের লোকশিল্প | অষ্টম শ্রেণি | বাংলা প্রথম পত্র | Eight Bangla 1st Paper Goddo | Amader Lokshilpo.
পাঠ-পরিচিতি
আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে। আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে।
পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে। বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্ত্ত।
নকশি কাঁথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ লুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাঁদের মনের মতো করে কাঁথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন। কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাথা। আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে। খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত।
আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সকলের। লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।
লেখক পরিচিতি
কামরুল হাসান ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। একজন খ্যাতিমান শিল্পী হিসেবে দেশে-বিদেশে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর আঁকা ছবিতে এদেশের লোকজ জীবনের নানা উপাদান আমাদের ঐতিহ্য-সচেতন করে। লোকশিল্প সংরক্ষণেও তাঁর প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ডিজাইন সেন্টারের প্রধান (নকশাবিদ) নিযুক্ত হন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকশিল্পের নানা উপকরণ সংগ্রহ করেন। ছবি আঁকার বিচিত্র কলাকৌশল এবং লোকশিল্পের নানা দিক সম্পর্কে তাঁর লেখা পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর একটি বইয়ের নাম ‘বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলন ও আমার কথা’। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি কামরুল হাসান ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
কর্ম-অনুশীলন :
ক. তোমার এলাকায় লোকশিল্পের পরিচয় তুলে ধর (একক কাজ)
খ. তোমার দেখা কোনো লোকশিল্প শেলার বিবরণ দিয়ে একটি রচনা লেখ (একক কাজ)
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন:
১. কোনটি মোগল বাদশাহদের বিলাসের বস্ত্ত ছিল ?
ক. নকশি কাঁথা
খ. ঢাকাই মসলিন
গ. খদ্দরের কাপড়
ঘ. শীতলপাটি
(৩৯)
২. মসলিনের কারিগরদের বংশধরেরা আজও কোথায় বসবাস করছে?
ক. কুমিল্লা
খ. সিলেট
গ. পার্বত্য চট্টগ্রাম
ঘ. নারায়ণগঞ্জ
৩. মসলিনের ঐতিহ্য লালন করছে কোনটি ?
ক. নকশিকাঁথা
খ. জামদানি শাড়ি
গ. টেরাপুতুল
ঘ. শীতলপাটি
৪. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কামাল তার বন্ধুর জন্মদিনে উপহার দিল একটি পিতলের কলস। এতে অনেকেই তাকে নিয়ে উপহাস করলেও অতীতে দুনিয়া জুড়ে আমাদের কারিগরদের কাজের উচ্চমানের কথা মনে করে কামাল গর্ববোধ করছিল।
কামালের দেয়া উপহারটিকে শিল্পগুণ বিচারে কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা যায় ?
ক. আধুনিক শিল্প
খ. কুটির শিল্প
গ. চারুশিল্প
ঘ. মৃৎশিল্প
৫. এরূপ উপহার দেয়ার পেছনে কামালের উদ্দেশ্যকে ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধের আলোকে বলা যায়
অর্থ সাশ্রয় করা
লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা
iii. ঐতিহ্যকে ধরে রাখা
কোনটি সঠিক উত্তর?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i , ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন:
১. পলাশপুর গ্রামের রহিমা। দরিদ্র হলেও শিল্পী মনের অধিকারী। ছোটবেলা থেকেই সে বাঁশ, বেত দিয়ে সংসারে প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস তৈরি করতো। কিন্তু আচমকা একদিন তার স্বামী মারা গেলে দুই সন্তান নিয়ে পথে বসে রহিমা। উপায়ন্তর না দেখে অবশেষে সুঁই-সুতা হাতে তুলে নেয় সে। তার সুখ-দুঃখের জীবনালেখ্য রহিমার দীঘল সুতার টানে ভাটা দিতে থাকে। একদিন বেসরকারি একটি সংস্থার মাধ্যমে তার সুচিশিল্পগুলো যায় বিদেশে এবং মোটা অঙ্কের অর্থ প্রাপ্তির পাশাপাশি প্রচুর সুনাম অর্জন করে।
(৪০)
ক. কোন এলাকার ‘মাদুর’ সকলের কাছে পরিচিত ?
খ. ‘ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে’ বলতে কী বুঝায় ?
গ. স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি আমাদের লোক শিল্প প্রবন্ধে কীসের প্রতিনিধিত্ব করে। বর্ণনা কর।
ঘ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান আমাদের লোক শিল্প প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন কর।
২. সেঁজুতির স্কুলে চলছিল বার্ষিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। সেঁজুতি জমা দেয় একটা নকশিকাঁথা। এ কাঁথায় ফুটিয়ে তোলে বর্ষা-প্রকৃতি এবং বিরহ কাতর একজন নারীর জীবন গাথা। দর্শনার্থী, বিচারক এবং প্রতিযোগী সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখেন এটি। একজন মন্তব্য লেখেন, আমাদের শিল্প যে সমৃদ্ধ তা বলে শেষ করার মতো নয়। কিন্তু সময় ও রুচির পরিবর্তনে তা আজ প্রায় ধ্বংসোম্মুখ। আমাদের সকলের এখনই এর প্রতি নজর দেয়া উচিত। নইলে অচিরেই এ শিল্প ধারাকে আমরা হারাব।
ক. শিল্পগুণ বিচারে আমাদের কুটিরশিল্প কোন শিল্পের মধ্যে পড়ে?
খ. বর্ষাকালে নকশিকাঁথা তৈরির জন্য উপযুক্ত সময় কেন ?
গ. সেঁজুতির এহেন উদ্যোগ আমাদের লোকশিল্পের যে বিশেষ দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে লোকশিল্প বাঁচিয়ে রাখার যে তাগিদ অনুভূত হয়েছে তা ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধের লেখকের বক্তব্যকে সমর্থন করে কি ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।#MomotazKhatun, #AmaderLokshilpo