প্লাটিহেলমিনথিস
Platyhelminthes
প্রাণিজগতের
একটি পর্ব।
গ্রিক
Platys
(চ্যাপ্টা) এবং
helmins
(কৃমি) শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে এই পর্বের নামকরণ করা হয়েছে
Platyhelminthes। বিজ্ঞানী
ক্লাউস ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এই পর্বের নামকরণ করেছিলেন।
সাধারণভাবে কৃমিজাতীয় প্রাণীদেরকে এই পর্বের
অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বভুক্ত প্রাণিদের সুনির্দিষ্ট সংবহনতন্ত্র কিংবা শ্বসনতন্ত্র
নাই। দেহের আকার লম্বা, নরম এবং অঙ্কীয় তল বরাবর ফিতার মতো চ্যাপ্টা।
বিভিন্ন অঙ্গের ভিতরে প্যারেনকাইমা নামক যোজক কলা থাকে। খাদ্যগ্রহণের জন্য এদের
মুখে থাকে চোষক অঙ্গ।
এদের দেহের বহিরবরণ এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও
মেসোডার্ম নামক তিনটি স্তর দ্বারা গঠিত। এ
ছাড়া এরা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।
এদের পরিপাক নালী রয়েছে। তবে পরিপাক তন্ত্রের
চারপাশে ও দেহপ্রাচীরের মাঝখানে কোন গহ্বর (সিলোম) থাকে
না। সিলোমের পরিবর্তে এই স্থানটুকু প্যারেনকাইমা নামক একধরনের যোজক টিস্যু
বা মেসেনকাইমা দ্বারা পূর্ণ থাকে। খাদ্য গ্রহণের পর থেকে
পরিপাক নালীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত
পৌষ্টিক কাজ শুরু হয় এবং খাদ্যর কোনো অবশেষ থাকে না। ফলে এদের দেহে কোনো পায়ুপথ নেই।
মূলত এরা পরজীবী। অন্য প্রাণীর দেহের পরিপাককৃত খাদ্য এরা গ্রহণ করে। ফলে এদের
মলত্যাগের প্রয়োজন হয় না।
এদের রেচনকার্য প্রোটোনেফ্রিডিয়া
নামক শিখা কোষ দ্বারা সম্পন্ন হয়।
এই কোষেরর অভ্যন্তরে সিলিয়ারী শিখা রয়েছে যা দেখতে অনেকটা জলন্ত আগুনের
শিখার মতো মনে হয়। তাই এর এরূপ এই নামকরণ করা হয়েছে।
এদের দেহে এক জোড়া অগ্রস্থ গ্যাংগ্লিয়া বা
নার্ভরিং এবং ১-৩ জোড়া অনুদৈর্ঘ্য স্নায়ুতন্তু নিয়ে
স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। গ্ল্যাংগ্লিয়া হলো এই সকল প্রাণী স্নায়ুগ্রহন ও প্রেরণের
কেন্দ্র যা উন্নত প্রাণির মস্তিষ্কের মতো কাজ করে।
এদের স্নায়ুতন্ত্র দেখতে মইয়ের মতো মনে হয়।
এদের আলাদা স্ত্রী ও পুরুষ
নেই। মূলত একই প্রাণির অভ্যন্তরে পুংজনন অঙ্গ ও
স্ত্রীজনন অঙ্গ থাকে। জনন অঙ্গ বেশ উন্নত এবং স্ত্রী ও
পুরুষ প্রজনন নালী একটি সাধারণ কক্ষে
উন্মুক্ত হয়। এই কক্ষটির নাম জেনাইটাল অ্যাট্রিয়াম। এই
কক্ষটি সাধারণত দেহের সামনের দিকে অবস্থান করে। পুং ও
স্ত্রীজনন অঙ্গ একসাথে থাকলেও স্বনিষেক হয় না বললেই
চলে। এদের যৌন ও অযৌন উভয় প্রকার জনন হয়ে থাকে। এদের
জীবনচক্র সম্পন্ন হওয়ার জন্যে এক বা একাধিক পোষকের দরকার
হয়। অর্থাৎ এরা একটি বা একাধিক প্রাণির দেহে অস্থায়ী
বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে জীবনচক্র সম্পন্ন করে থাকে।