সহকারী শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:২১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
গ্রিসকে পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্মভূমি বলে মনে করা হয়। গ্রিস দেশটির জন্ম আনুমানিক তিন হাজার বছর আগে। খ্রিস্টপূর্ব দু হাজার অব্দ থেকে মিনেয়ান প্রভুরা ভূমধ্যসাগরের এই অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপে গড়ে তুলেছিলেন নিজেদের বিশাল সাম্রাজ্য। ক্রেটান, মাইসেনিয়ান, জেরিয়ান প্রভৃতি সংস্কৃতির হাতে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে গ্রিক সভ্যতা। অবস্থানগত এবং অন্যান্য নানারকম সুবিধা থাকার কারণে এথেন্সই হয়ে ওঠে গ্রীস দেশের অন্যতম শহর। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে গণতন্ত্রের জন্ম এই এথেন্স নগরিতেই। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাজ্য পরিচালনা করতেন। নির্বাচনে যাঁরা অংশ নিতেন না, শাস্তি স্বরূপ তাদের মুখে লাল রং মাখিয়ে দেওয়া হতো। এথেন্সে খ্রিস্টপূর্ব ৪৪৫ থেকে ৪৩১ পর্যন্ত দুর্দান্ত দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেন পেরিক্লিস।
পেরিক্লিসের সময়েই এথেন্সের শারীরিক সৌন্দর্য সবচাইতে বেশি বিকশিত হয়। এই সময় নির্মিত হয় ইতিহাস প্রসিদ্ধ পার্থেনন মন্দির। সেই যুগে পর পর অনেক জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক ও চিন্তাবিদ জন্মেছিলেন গ্রিসে। সাহিত্যে আবির্ভাব হয় ইসকাইলাস, সফোক্লিস এবং ইউরিপিডিসের মতো যুগস্রষ্টাদের। ভাস্কর্যে ফিডিয়স, ইতিহাসে থুকিডিডেস, হেরোডেটাস, দর্শনে পারমেনিডেস, জুনো এবং জগদ্বিখ্যাত সক্রেটিস আবির্ভূত হন সে যুগেই। সক্রেটিসের যোগ্য শিষ্য প্লেটো তাঁরই দর্শনের ভিতের ওপর গড়ে তোলেন আদর্শ রিপাবলিকের থিসিস। রাজনীতি ও দর্শনে পাশ্চাত্য সভ্যতার উপর গভীর ছাপ রেখে গেছেন তিনি। প্লেটোর লেখা বই ‘রিপাবলিক’ এখনও সারা পৃথিবী জুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে পঠিত হয়