সহকারী শিক্ষক
৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৬:৪৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
ফিরে এসেছে মসলিন কাপড়!
ব্রিটিশরা তৎকালীন মসলিন কারিগরদের আঙুল কেটে দিয়েছিল, তাই এটা বাংলার ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে গেছে, এমনকি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। একপর্যায়ে মনে এই প্রশ্নও জেগেছিল, এই কিংবদন্তি মসলিনের অস্তিত্ব কি আসলেই ছিল, নাকি সবই রূপকথা?
সম্প্রতি বাংলার কিছু এক্সপার্ট গবেষক অক্লান্ত পরিশ্রম আর বহু যন্ত্রণার পর কাপাসিয়া থেকে আনলেন ফুটি কার্পাস তুলাগাছের নমুনা, যা ছাড়া মসলিনের অস্তিত্বই চিন্তা করা যায় না। ডিএনএ তুলনা করে নিশ্চিত হলেন যে গাছ ঠিকঠাক, সেই গাছ চাষও করা হল রাজশাহীতে।
এখন কারিগর পাওয়া যাবে কোথায়? খুঁজতে খুঁজতে কুমিল্লায় কারিগর পাওয়া গেল যারা ১০ কাউন্টের মোটা সুতা তৈরি করেন, অথচ মসলিনের দরকার ৫০০ কাউন্ট! সেই সুতা তৈরিতে তিন আঙুলের কারিশমা প্রয়োজন, আর সেই আঙুল হতে হবে একেবারে নরম। কারিগরদের আঙুলে সারারাত লোশন মেখে সকালে সুতা কাটার কাজ করা হল, ধীরে ধীরে একটি দল দাঁড়িয়ে গেল যারা ৩০০ কাউন্টের সুতা তৈরি করতে পারছেন। একেবারে হয়তো মিললো না, কিন্তু কিছু তো এগুলো। এবার শাড়ি বুনবেন কীভাবে? এক্সপার্ট তাঁতি খুঁজে বের করা হল, আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য মাটির গর্তে তাঁত বসানো হল, সুতা বারবার ছিঁড়ে যাওয়া রোধ করার জন্য বালতিতে পানি রেখেও কাজ করা হল। তৈরি হল মসলিনের শাড়ি!
সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে বাংলায় ব্যবসা করতে এসে ফরাসি রত্ন ব্যবসায়ী ও পরিব্রাজক, বাপতিস্ত তাভের্নিয়ে মসলিন কাপড় হাতে নিয়ে বলেছিলেন, "মনে হয়, একটা মাকড়সার জাল, এতই সূক্ষ্ম যে হাতে ধরলে প্রায় বোঝা যায় না, কী ধরেছি হাতে।"
ছবিঃ প্রথম আলো।