Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৯ জুন, ২০২১ ০২:২৮ পূর্বাহ্ণ

আঠালো ভাতের সাথে সিদ্ধ সবজি
মণিপুরী
চাকমাদের মতো মণিপুরীরাও খাবারে তেল ও মসলার ব্যবহার করে না বললেই চলে। প্রাত্যাহিক জীবনে মণিপুরীরা আঠালো ভাতের সাথে সিদ্ধ সবজি এবং বিভিন্ন রকমের ডাল দিয়ে তৈরি ‘খার’ খায়। খার তৈরিতে ডালের সাথে আদা পাতা, হলুদ পাতা, লেবু পাতা দেওয়া হয়। এরপর এতে কলাগাছ পুড়িয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ছাই দেওয়া হয়, যা খারে ব্যতিক্রমধর্মী এক ফ্লেভার যোগ করে। তাদের প্রতিবেলা ভাতের সাথে থাকা আরেকটি সবজি তরকারি হচ্ছে ‘পালটৈ’। মণিপুরীদের খাদ্য তালিকায় মাংস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল। পরবর্তীতে চৈতন্যের আদর্শে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণের পর থেকে তারা তা পরিহার করে। মণিপুরীদের যেকোনো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই খাওয়া-দাওয়ার একটি পর্ব থাকে। যাকে ‘বান্দারা’ বলে। এখানে কলা পাতায় করে খাবার দেওয়া হয়, যা পুরোটাই নিরামিষ। ‘উটি’, ‘চাগেম পমবা’, ‘চামখোঙ/কাঙসোই’ হচ্ছে প্রচলিত কিছু নিরামিষ তরকারি। চেঙুম বা মাশরুমও বান্দারাতে পরিবেশন করা হয়। বান্দারায় মণিপুরীদের বিশেষ সালাদ ‘চিনচু’ বেশ সমাদৃত। এছাড়াও ভর্তা ও ডাল জাতীয় খাবার এদের বিশেষ পছন্দের। বিভিন্ন উত্সবে মণিপুরীরা এক বিশেষ মাছের তরকারি রান্না করে, যা ‘নাগা’ বলে পরিচিত। প্রায় প্রতিটি মণিপুরী বাড়িতেই নিজস্ব কিচেন গার্ডেন ও ছোট পুকুর থাকে। যেখানে বিভিন্ন শাক-সবজি ও মাছের চাষ হয়। তকপানিকম, নিয়াঙপা, ইকাইতাপি, ফাকপই, ফাতিকম, নুংশিহজক, কেলিকদম, লংচাক, নেন্নাম প্রভৃতি তাদের নিজস্ব কিছু সবজি আইটেম। এগুলোকে একসাথে ‘মারৈ’ বলে। মণিপুরীদের আরেকটি বিশেষত্বপূর্ণ খাবার হচ্ছে ‘উছেইর ইরলপা’। এটি কচি বাঁশ, ডাল, স্মোকড ফিশ এবং মারৈ সিদ্ধ করে বানানো হয়। বিকেলের নাস্তায় শরীর চাঙা রাখতে ভাজা চাল, শুকনো মাছ আর মারৈ দিয়ে খুব ঝাল করে একরকম ছাতু তৈরি করা হয়, যা ‘করেইর চিনচু’ নামে পরিচিত।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট