Loading..

১৯ জুন, ২০২২ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

বাইপোলার ডিসঅর্ডার (Bipolar Disorder) কী? লক্ষণসমূহ কী কী?

 বাইপোলার ডিসঅর্ডার (Bipolar Disorder) কী?

 বাইপোলার ডিসঅর্ডার (bipolar disorder) একটি মানসিক রোগ, যা মারাত্মক উচ্চ ও নিম্ন মেজাজ, ঘুম, শক্তি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণে পরিবর্তন আনে। এটি অনেক সময় ম্যানিক ডিপ্রেশন নামেও (manic depression) পরিচিত। আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে, এটি কোনো রোগ নয়। মনোবিদেরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে একজন মানুষের আবেগের বা মানসিকতার বিপরীতমুখী এই অবস্থা চলতে থাকলে সেটিকে বাইপোলার ডিজঅর্ডার বলে। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় অত্যধিক সুখী এবং উজ্জীবিত বোধ করে, আবার অনেক সময় অন্যান্য খুব দুঃখ, আশাহীন, একাকীত্ব ও অলস বোধ করে। কখনো দারুণ উৎফুল্ল থাকেন, আবার কখনো বিষন্নতায় ভুগতে থাকেন। কখনো কাজকর্ম নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ব্যস্ত থাকেন, আবার কখনো একেবারে অলস জীবন যাপন করেন। এই দুই সময়ের  অন্তর্বর্তীকালীন তারা সাধারণত স্বাভাবিক বোধ করে। উচ্চ বা নিম্ন মেজাজ অর্থাৎ খুব ভালো বা খুব মন্দ মেজাজের এই দু’টি অবস্থা বা দু’টি মেরুর (pole) জন্য এই রোগের নামকরণ ‘বাইপোলার (bipolar)’ করা হয়।


এই রোগের অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে, রোগীর মেজাজের গুরুতর পরিবর্তন, যা রোগীর মধ্যে প্রকাশিত বিদ্যমান স্বাভাবিক মেজাজের পরিবর্তন থেকে আলাদা। অনেকসময় বাইপোলার ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলো শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। অনেক্ষেত্রে স্বাভাবিক উত্থান-পতন, স্ট্রেস বা ট্রমার ফলাফল, বা অন্য কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ প্রভৃতির সাথে বাইপোলার ডিসঅর্ডারের লক্ষণ পৃথক করা কঠিন। এই রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকেরা ম্যানিক (manic)  কিংবা হাইপোম্যানিক (hypomanic) লক্ষণগুলোর চেয়ে বিষণ্নতা (depressive)-এর লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়। শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বতন্ত্র বিষণ্নতা, ম্যানিক বা হাইপোম্যানিক থাকতে পারে, তবে প্যাটার্নটি বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে আলাদা হতে পারে। বাইপোলার উপসর্গ গর্ভাবস্থায়ও ঘটতে পারে এবং আক্রান্ত মেয়েদের ক্ষেত্রে লক্ষণ ছাড়াই মাসিক হতে হতে পারে।

 ম্যানিক (manic) শব্দটি সেই সময়কে বুঝায়, যখন বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত উত্তেজিত এবং আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন। এই অনুভূতিগুলো বিরক্তি করতে এবং আবেগপ্রবণ বা বেপরোয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করে। ম্যানিয়া আক্রান্ত প্রায় ৫০শতাংশ রোগী বিশ্বাসে বিভ্রম হতে পারে। অর্থাৎ যা সত্য নয়, সেগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে উৎসাহ বোধ করে না। বিশ্বাসের এই বিভ্রমের জন্য তারা অনেক সময় হ্যালুসিনেশনে (hallucination) ভোগে অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা বস্তু তাদের সামনে না থাকা সত্ত্বেও তারা সেগুলোকে দেখে বা কথা শুনে বলে মনে করে। হাইপোম্যানিয়া (hypomania) ম্যানিয়ার মৃদু লক্ষণগুলোকে বর্ণনা করে, যার মধ্যে কারোর হ্যালুসিনেশন (hallucinations) বা দৃষ্টি বিভ্রম নেই এবং তাদের উচ্চ লক্ষণগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনে হস্তক্ষেপ করে না। বিষণ্ণতা (depressive) শব্দটি সেই সময়কে বর্ণনা করে, যখন ব্যক্তি খুব দুঃখিত বা বিষণ্ণ বোধ করে। এই উপসর্গগুলো ক্লিনিকাল ডিপ্রেশন (clinical depression) অর্থাৎ হতাশা বা বিষন্নতার প্রধান লক্ষণগুলোর মতোই এমন একটি অবস্থা, যেখানে কারো কখনও ম্যানিক (manic) বা হাইপোম্যানিক (hypomanic) লক্ষণ থাকে না।

 শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডারের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে যারা ভুগছে, তারা হতাশার চূড়ান্ত পর্যায়ে আত্মহত্যার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মানসিক সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্যদের রোগীর পাশে দাঁড়ানো উচিত। একাকীত্ম, হতাশা ও বিষণ্নতা থেকে কাটিয়ে উঠার জন্য বন্ধুবান্ধবদের রোগীকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভালোবাসার অনুভূতি ভাগ করে নিতে পারেন এবং মানসিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে গ্রুপ আলোচনা করতে পারেন।

 [লেখক: মনির আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা]

 

মন্তব্য করুন