Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

রাসায়নিক বিক্রিয়া

৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান: রাসায়নিক বিক্রিয়া

রাসায়নিক বিক্রিয়া কী?

যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থ তৈরি করে, তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে।

যেসব পদার্থ বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, তাদের বিক্রিয়ক (Reactant) বলে। আর বিক্রিয়ার ফলে যে নতুন পদার্থ তৈরি হয়, তাকে উৎপাদ (Product) বলে।

উদাহরণ: লোহা ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় মরিচা তৈরি হয়।

লোহা+অক্সিজেনমরিচা


রাসায়নিক বিক্রিয়ার লক্ষণ

কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটছে কি না, তা বোঝার কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো—

  1. রঙের পরিবর্তন

    • যেমন: লোহার উপর বাদামি-লাল মরিচা পড়া।
  2. গ্যাস উৎপন্ন হওয়া

    • যেমন: ভিনেগারের সঙ্গে বেকিং সোডা মেশালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস বের হয়।
  3. তাপ উৎপন্ন বা শোষিত হওয়া

    • কোনো বিক্রিয়ায় তাপ বের হয়, আবার কোনো বিক্রিয়ায় তাপ লাগে।
  4. আলো উৎপন্ন হওয়া

    • যেমন: মোমবাতি জ্বলা বা ম্যাগনেসিয়াম ফিতা পোড়া।
  5. তলানি সৃষ্টি হওয়া

    • দুইটি দ্রবণ মেশালে কখনো অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থ নিচে জমা হয়।

রাসায়নিক বিক্রিয়ার উদাহরণ

১. ম্যাগনেসিয়াম পোড়ানো

ম্যাগনেসিয়াম ফিতা বাতাসে পোড়ালে উজ্জ্বল সাদা আলো দেখা যায় এবং সাদা ছাই তৈরি হয়।

2Mg+O22MgO

এখানে—

  • ম্যাগনেসিয়াম ও অক্সিজেন = বিক্রিয়ক
  • ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড = উৎপাদ

২. লোহার মরিচা ধরা

লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এলে মরিচা ধরে।

লোহা+অক্সিজেন+পানিমরিচা

মরিচা পড়লে লোহার জিনিস দুর্বল হয়ে যায়।


৩. মোমবাতি জ্বলা

মোম বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, তাপ ও আলো তৈরি করে।


রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রকারভেদ

১. সংযোজন বিক্রিয়া

দুই বা ততোধিক পদার্থ মিলিত হয়ে একটি নতুন পদার্থ তৈরি করলে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।

উদাহরণ:

2Mg+O22MgO


২. বিয়োজন বিক্রিয়া

একটি যৌগ ভেঙে দুই বা ততোধিক পদার্থ তৈরি হলে তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলে।

উদাহরণ: তাপের সাহায্যে কিছু যৌগ ভেঙে নতুন পদার্থ তৈরি হতে পারে।


৩. স্থানচ্যুতি বিক্রিয়া

একটি বেশি সক্রিয় মৌল কোনো যৌগ থেকে কম সক্রিয় মৌলকে সরিয়ে দিলে তাকে স্থানচ্যুতি বিক্রিয়া বলে।

উদাহরণ:

Fe+CuSO4FeSO4+Cu

লোহার পেরেক কপার সালফেটের নীল দ্রবণে রাখলে দ্রবণের রং পরিবর্তিত হয় এবং তামা জমা পড়ে।


ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের পার্থক্য

ভৌত পরিবর্তনরাসায়নিক পরিবর্তন
নতুন পদার্থ তৈরি হয় নানতুন পদার্থ তৈরি হয়
অনেক সময় আগের অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায়সাধারণত আগের অবস্থায় সহজে ফিরে পাওয়া যায় না
উদাহরণ: বরফ গলে পানি হওয়াউদাহরণ: কাঠ পোড়া, লোহায় মরিচা ধরা

মনে রাখবে

  • রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পদার্থের গঠন ও ধর্ম পরিবর্তিত হয়।
  • বিক্রিয়ার আগে ও পরে মোট ভর অপরিবর্তিত থাকে—এটিকে ভর সংরক্ষণ সূত্র বলা হয়।
  • রাসায়নিক বিক্রিয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘটে: রান্না করা, খাবার হজম, দুধ টক হওয়া, কাঠ পোড়া ইত্যাদি।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: রাসায়নিক বিক্রিয়া কাকে বলে? উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থ সৃষ্টি করে, তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে।

প্রশ্ন: মরিচা ধরার জন্য কী কী দরকার? উত্তর: লোহা, অক্সিজেন এবং পানি বা জলীয় বাষ্প।

প্রশ্ন: ম্যাগনেসিয়াম পোড়ালে কী তৈরি হয়? উত্তর: ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড তৈরি হয়।

মন্তব্য করুন