Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস-২

মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস (Classification of Vertebrates)

মেরুদণ্ডী প্রাণী (Vertebrata) হলো কর্ডাটা (Chordata) পর্বের অন্তর্ভুক্ত এক বিশাল ও উন্নত উপপর্ব। যেসব প্রাণীর পিঠের দিকে অস্থি বা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি মেরুদণ্ড (Vertebral Column) থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে।

১. মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • মেরুদণ্ডের উপস্থিতি: ভ্রূণ অবস্থায় থাকা নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে খণ্ড খণ্ড কশেরুকা দিয়ে তৈরি শক্ত মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়।

  • কঙ্কাল: এদের দেহে অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় অভ্যন্তরীণ কঙ্কাল থাকে।

  • সুগঠিত স্নায়ুতন্ত্র: এদের মাথা বা করোটীর ভেতর সুরক্ষিত সুগঠিত মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু (Somatic Nervous System) থাকে।

  • বন্ধ রক্তসংবহন তন্ত্র: হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীর মাধ্যমে দেহের ভেতর বন্ধ রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া চালু থাকে।

২. প্রধান শ্রেণিবিন্যাস

মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (ভার্টিব্রাটা) প্রথমত চোয়ালের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দুটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়:

ক. অ্যাগ্নাথা (Agnatha) – চোয়ালবিহীন প্রাণী

  • বৈশিষ্ট্য: প্রকৃত চোয়াল ও জোড় পাখনা থাকে না। মুখ গোল ও চোষক প্রকৃতির।

  • উদাহরণ: ল্যাম্প্রে (Petromyzon), হ্যাগফিশ।

খ. গ্নাথোস্টোমাটা (Gnathostomata) – চোয়ালযুক্ত প্রাণী

  • বৈশিষ্ট্য: প্রকৃত চোয়াল ও জোড় উপাঙ্গ (পাখনা বা পা) বিদ্যমান।

  • শ্রেণীসমূহ: গ্নাথোস্টোমাটাকে প্রধানত ৬টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়।

৩. গ্নাথোস্টোমাটার প্রধান ৬টি শ্রেণী

১. কনড্রিকথিস (Chondrichthyes) – তরুণাস্থিময় মৎস্য

  • বৈশিষ্ট্য:

    • কঙ্কাল সম্পূর্ণ তরুণাস্থি (Cartilage) দিয়ে গঠিত।

    • ত্বকে সূক্ষ্ম প্লাকয়েড আঁশ থাকে।

    • কানকো (Operculum) থাকে না, ফুলকারন্ধ্র উন্মুক্ত।

  • উদাহরণ: হাঙর, করাত মাছ, শাপলা পাতা মাছ।

২. অস্টিকথিস (Osteichthyes) – অস্থিময় মৎস্য

  • বৈশিষ্ট্য:

    • কঙ্কাল কঠিন ও শক্ত অস্থি (Bone) দিয়ে তৈরি।

    • ত্বক সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁশে ঢাকা।

    • ৪ জোড়া ফুলকা থাকে যা কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে।

    • পানিতে ভাসার জন্য দেহে পটকা (Swim bladder) থাকে।

  • উদাহরণ: রুই, কাতলা, ইলিশ, কৈ।

৩. আম্ফিবিয়া (Amphibia) – উভচর

  • বৈশিষ্ট্য:

    • জীবনের প্রথম ভাগ (লার্ভা অবস্থা) পানিতে এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থা ডাঙায় কাটায়।

    • ত্বক নরম, আর্দ্র, সিক্ত এবং আঁশহীন।

    • হৃদপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং এরা শীতল রক্তের প্রাণী।

  • উদাহরণ: কুনোব্যাঙ, সোনাব্যাঙ, স্যালাম্যান্ডার।

৪. রেপটিলিয়া (Reptilia) – সরীসৃপ

  • বৈশিষ্ট্য:

    • বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে।

    • ত্বক শুষ্ক এবং কেরাটিন নির্মিত শক্ত আঁশ দ্বারা আবৃত।

    • কেবল ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালনা করে।

    • শক্ত খোলসযুক্ত ডিম পাড়ে।

  • উদাহরণ: টিকটিকি, সাপ, কুমির, কচ্ছপ।

৫. এভিস (Aves) – পক্ষী শ্রেণী

  • বৈশিষ্ট্য:

    • সমস্ত দেহ পালকে আবৃত এবং দুটি অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত।

    • হাড় হালকা ও ফাঁপা (নিউম্যাটিক)।

    • এরা উষ্ণ রক্তের (Warm-blooded) প্রাণী।

  • উদাহরণ: দোয়েল, কবুতর, ইগল, হাঁস, পেঙ্গুইন।

৬. ম্যামালিয়া (Mammalia) – স্তন্যপায়ী

  • বৈশিষ্ট্য:

    • মায়েদের স্তন্যগ্রন্থি থাকে এবং এরা সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করিয়ে লালন-পালন করে।

    • দেহ লোমে ঢাকা থাকে এবং কান বা পিনা সুগঠিত।

    • হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।

    • এরা অত্যন্ত উন্নত ও পরিবেশের সাথে দ্রুত খাপ খাওয়াতে সক্ষম।

  • উদাহরণ: মানুষ, বাঘ, গরু, নীল তিমি, বাদুড়।

সারসংক্ষেপ

বিবর্তনীয় ধারাবাহিকতায় মেরুদণ্ডী প্রাণীরা পানি থেকে ডাঙা এবং পরবর্তীতে আকাশে অভিযোজিত হয়েছে—

মৎস্য (তরুণাস্থিময় ও অস্থিময়) → উভচর → সরীসৃপ → পাখি ও স্তন্যপায়ী।

মন্তব্য করুন