সহকারী শিক্ষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১
মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস (Classification of Vertebrates)
মেরুদণ্ডী প্রাণী (Vertebrata) হলো কর্ডাটা (Chordata) পর্বের অন্তর্ভুক্ত এক বিশাল ও উন্নত উপপর্ব। যেসব প্রাণীর পিঠের দিকে অস্থি বা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি মেরুদণ্ড (Vertebral Column) থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে।
মেরুদণ্ডের উপস্থিতি: ভ্রূণ অবস্থায় থাকা নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে খণ্ড খণ্ড কশেরুকা দিয়ে তৈরি শক্ত মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়।
কঙ্কাল: এদের দেহে অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় অভ্যন্তরীণ কঙ্কাল থাকে।
সুগঠিত স্নায়ুতন্ত্র: এদের মাথা বা করোটীর ভেতর সুরক্ষিত সুগঠিত মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু (Somatic Nervous System) থাকে।
বন্ধ রক্তসংবহন তন্ত্র: হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীর মাধ্যমে দেহের ভেতর বন্ধ রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া চালু থাকে।
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (ভার্টিব্রাটা) প্রথমত চোয়ালের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দুটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়:
বৈশিষ্ট্য: প্রকৃত চোয়াল ও জোড় পাখনা থাকে না। মুখ গোল ও চোষক প্রকৃতির।
উদাহরণ: ল্যাম্প্রে (Petromyzon), হ্যাগফিশ।
বৈশিষ্ট্য: প্রকৃত চোয়াল ও জোড় উপাঙ্গ (পাখনা বা পা) বিদ্যমান।
শ্রেণীসমূহ: গ্নাথোস্টোমাটাকে প্রধানত ৬টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
কঙ্কাল সম্পূর্ণ তরুণাস্থি (Cartilage) দিয়ে গঠিত।
ত্বকে সূক্ষ্ম প্লাকয়েড আঁশ থাকে।
কানকো (Operculum) থাকে না, ফুলকারন্ধ্র উন্মুক্ত।
উদাহরণ: হাঙর, করাত মাছ, শাপলা পাতা মাছ।
বৈশিষ্ট্য:
কঙ্কাল কঠিন ও শক্ত অস্থি (Bone) দিয়ে তৈরি।
ত্বক সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁশে ঢাকা।
৪ জোড়া ফুলকা থাকে যা কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে।
পানিতে ভাসার জন্য দেহে পটকা (Swim bladder) থাকে।
উদাহরণ: রুই, কাতলা, ইলিশ, কৈ।
বৈশিষ্ট্য:
জীবনের প্রথম ভাগ (লার্ভা অবস্থা) পানিতে এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থা ডাঙায় কাটায়।
ত্বক নরম, আর্দ্র, সিক্ত এবং আঁশহীন।
হৃদপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং এরা শীতল রক্তের প্রাণী।
উদাহরণ: কুনোব্যাঙ, সোনাব্যাঙ, স্যালাম্যান্ডার।
বৈশিষ্ট্য:
বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে।
ত্বক শুষ্ক এবং কেরাটিন নির্মিত শক্ত আঁশ দ্বারা আবৃত।
কেবল ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালনা করে।
শক্ত খোলসযুক্ত ডিম পাড়ে।
উদাহরণ: টিকটিকি, সাপ, কুমির, কচ্ছপ।
বৈশিষ্ট্য:
সমস্ত দেহ পালকে আবৃত এবং দুটি অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত।
হাড় হালকা ও ফাঁপা (নিউম্যাটিক)।
এরা উষ্ণ রক্তের (Warm-blooded) প্রাণী।
উদাহরণ: দোয়েল, কবুতর, ইগল, হাঁস, পেঙ্গুইন।
বৈশিষ্ট্য:
মায়েদের স্তন্যগ্রন্থি থাকে এবং এরা সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করিয়ে লালন-পালন করে।
দেহ লোমে ঢাকা থাকে এবং কান বা পিনা সুগঠিত।
হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
এরা অত্যন্ত উন্নত ও পরিবেশের সাথে দ্রুত খাপ খাওয়াতে সক্ষম।
উদাহরণ: মানুষ, বাঘ, গরু, নীল তিমি, বাদুড়।
বিবর্তনীয় ধারাবাহিকতায় মেরুদণ্ডী প্রাণীরা পানি থেকে ডাঙা এবং পরবর্তীতে আকাশে অভিযোজিত হয়েছে—
মৎস্য (তরুণাস্থিময় ও অস্থিময়) → উভচর → সরীসৃপ → পাখি ও স্তন্যপায়ী।