Loading..

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

ইংরেজিতে চুড়িকে বলা হয় ব্যাঙ্গেল (bangle) এই শব্দের উৎপত্তি বাঙ্গারি (bangari) থেকে। যার অর্থ কাঁচ।

ইংরেজিতে চুড়িকে বলা হয় ব্যাঙ্গেল (bangle) এই শব্দের উৎপত্তি বাঙ্গারি (bangari) থেকে। যার অর্থ কাঁচ। এখন থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে পাকিস্তানের মহেঞ্জোদারো সভ্যতায় নৃত্যরত বালিকার মূর্তিতে চুড়ি দেখা গেছে। প্রথমে মাটি, পরে লোহা, তামা ব্রোঞ্জ, সোনা, রূপা নানা ধাতুতেই চুড়ি পরার প্রচলন ছিল, এখনও আছে। হাল আমলে এসে চুড়ির ডিজাইন ও উপকরণ আরো বেড়েছে। তবে খ্রিস্টপূর্ব দেড় হাজার হাজার বছর আগে রোমান সভ্যতায় চুড়িতে কাঁচের ব্যবহার শুরু হয়। তখন চুড়ির উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহার করা হতো। 

 

চুড়ি মুলত একধরনের গোলাকৃতির অনমনীয় করভুষণ (বা ব্রেসলেট) গহনা যা সাধারণত ধাতু, কাঠ, কাঁচ, প্লাস্টিক, সোনা, এমনকি মাটি দিয়েও তৈরি হয়ে থাকে। এটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের ঐতিহ্যগত অলঙ্কার হিসেবে পরিচিত যা সাধারণত হাতের কব্জিতে পরিহিত থাকে। দোকানে সাজিয়ে রাখা চুড়ি স্থুল বা মোটা চুড়িকে বালা নামে অভিহিত করা হয়। এছাড়াও অঞ্চলভেদে চুড়ি বিভিন্ন নামে পরিচিত: নেপালি: चुरा Chura, হিন্দি: चूड़ी Choodi, উর্দু: چوڑیاں‎‎, পশতু: بنګړې and বেলুচি: بنگڑي Bangří।

 

'চুড়ির নেইকো জুড়ি

কাজের ফাঁকে চটজলদি হালকা সাজে হাতে এক গোছা চুড়ি পরলেই সাজের কাজ এগিয়ে যায় অনেকখানি। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে নারী-পুরুষ সবাই পরতো চুড়ি গয়নাটি। ওই সময় চুড়ি শুধু অলংকারই ছিল না। আদিকালে এটি ছিল সংস্কৃতি, প্রথা ও মর্যাদার প্রতীক।

 

আছে রেশমি চুড়ির এক সোনালি ইতিহাস। এটি মূলত নর-নারীর কাছে ছিল রোমাঞ্চের প্রতীক। সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা থেকেই নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাঁচের চুড়ির প্রচলন ঘটে। তখনকার কাঁচের চুড়ির ফর্ম ও শৈলী ছিল প্লেন রেশমি কাঁচের চুড়ি। কিন্তু মধ্যযুগে কাঁচের চুড়ির শৈলী পরিবর্তিত হয়ে খাঁজকাটা যোগ হয়েছে। ওজনে ভারী হয়েছে এবং রংয়েও এসেছে ভিন্নতা। তখনকার নারীরা মূলত বিয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাঁচের চুড়ি পরিধান করতেন। বিয়েতে নারীদের হাতে শোভা পেতো রঙ-বেরঙের কাচের চুড়ি। জরি, মুক্তা, পাথর, স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান উপকরণ বসিয়ে তৈরি করা হতো কাঁচের চুড়ি। বউ সাজে লাল-সবুজ ও সোনালির মতো রঙের চুড়িগুলো প্রাধান্য পেতো। হাতভর্তি চুড়ি ও তার রিনিঝিনি শব্দ না হলে যেন নারীর সাজ পূর্ণ হয় না। তখন সম্ভ্রান্ত জমিদার ও নবাব পরিবারের নারীদের হাতে রেশমি চুড়ি থাকাটা ছিল অবধারিত।

 

হরপ্পা সভ্যতার আগে থেকেই এশিয়ায় চুড়ি ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া যায়। এরপর অনেকবার চুড়ির ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। কখনো উচ্চবিত্তদের পরতে দেখা গেছে চুড়ি। কখনো ধর্মীয় অলংকার হিসেবে। এভাবে একটু একটু করে গান, গল্প, নববর্ষ স্নেহ-ভালবাসাসবখানে বাঙালির জীবনে বড় একটা জায়গা দখল করে নিয়েছে চুড়ি।

 

মন্তব্য করুন